মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে ১১ হাজার ১১০টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৬৫ হাজার ৬৯৯ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে অবৈধ কর্মী রাখার দায়ে ১ হাজার ৯৬৬ জন নিয়োগকর্তাকেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪৫ হাজার ৫৯৭ জন বিদেশিকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
মূলত বৈধ কাগজপত্র না থাকা, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া, সামাজিক ভ্রমণ ভিসায় এসে কাজ করা কিংবা অনুমোদিত শর্তের বাইরে কাজ করার অভিযোগে এসব ধরপাকড় চালানো হচ্ছে। এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর কুয়ালালামপুরে এক অভিযানে ৪৭২ জনের মধ্যে ৩৬৪ জন বাংলাদেশি আটক হন। আটকের এই ধারা অব্যাহত থাকায় দেশে রেমিট্যান্স পাঠানো এসব কর্মীদের জীবনে অনিশ্চয়তার ছায়া নেমে এসেছে।
অবৈধ অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে ৪ কোটি ১২ লাখের বেশি এবং বিদেশিদের কাছ থেকে ৩ কোটি ৭১ লাখের বেশি রিঙ্গিত জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এদিকে, স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার ‘মাইগ্র্যান্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রাম ২.০’-এর আওতায় ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩ লাখ ১২ হাজার ১৪৬ জন নিবন্ধন করেছেন।
দালাল ও মধ্যস্থতাকারীদের প্রতারণা এবং নিয়োগকর্তাদের গাফিলতির কারণে অনেক কর্মী না জেনে অবৈধ হয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রবাসীদের নিজেদের ভিসা ও কর্মানুমতির মেয়াদ নিয়মিত যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কাগজপত্রে সমস্যা দেখা দিলে দালালদের এড়িয়ে সরাসরি বাংলাদেশ হাইকমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা নিতে বলা হয়েছে।
